মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আকাশপথে চলাচলে বিঘ্নের কারণে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া, প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজন এবং অ্যালফাবেট তাদের দুবাইয়ের কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত অনেক কর্মীকে ঘরে বসে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বা ওই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। যুদ্ধের কারণে আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক কর্মী ভ্রমণ জটিলতায় পড়েছেন।
বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়া তাদের দুবাই অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় ছয় হাজার কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনভিডিয়ার ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম’ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
হুয়াং বলেন, “এ অঞ্চলে এনভিডিয়া’র শেকড় অনেক গভীরে। আমাদের হাজার হাজার সহকর্মী সেখানে বাস করেন এবং বিশ্বজুড়ে আরও অনেকের পরিবার ও বন্ধুরা এ ঘটনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আপনাদের মতো আমিও আমাদের এনভিডিয়া পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এনভিডিয়ার সবচেয়ে বড় গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র বর্তমানে ইসরায়েলে অবস্থিত। ২০১৯ সালে ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেলানক্স প্রায় ৭১৩ কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করে কোম্পানিটি, যা সে সময় এনভিডিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুক্তি ছিল।
অন্যদিকে প্লেন চলাচলে বিঘ্নের কারণে দুবাইয়ে আয়োজিত একটি বিক্রয় সম্মেলন শেষে গুগলের কয়েক ডজন কর্মী সেখানে আটকে পড়েছেন। গত সপ্তাহে গুগলের ক্লাউড ইউনিটের ‘অ্যাকসেলরেইট সেলস কিকঅফ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কর্মীদের মধ্যে অনেকে এখনও ওই অঞ্চলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এভিয়েশন তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ১১ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
গুগল জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সবাইকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আমরা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য, ওই অঞ্চলে আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা।”
অ্যামাজনও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কর্পোরেট কর্মীদের ঘরে বসে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, “আমাদের কর্মী ও পার্টনারদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাদের সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা স্থানীয় দল ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।”
অঞ্চলজুড়ে অ্যামাজনের বিভিন্ন ডেটা সেন্টার, গুদামঘর এবং দ্রুত ডেলিভারি সেবার অবকাঠামো রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ডেটা সেন্টার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কিছু অনলাইন সেবা ব্যাহত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের ডেটা ব্যাকআপ বা অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছে।
প্রযুক্তি কোম্পানি স্ন্যাপও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের চারটি অফিসের কর্মীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরে বসে কাজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


