পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক তরুণ ও তরুণীকে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ মার্চ) উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী খড়েরদাঁইড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার তরুণ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তার সঙ্গে ভাড়ইমারী খড়েরদাঁইড় গ্রামের ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগেও তিনি কয়েকবার ওই তরুণীর বাড়িতে এসেছিলেন। বুধবার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী তাদের একটি ঘর থেকে আটক করেন।
পরে ওই তরুণ-তরুণীকে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তাদের পায়েও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় দীর্ঘক্ষণ ধরে তাদের নানা কটু কথা শোনানো এবং শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। তরুণ ও তরুণী দুজনই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘটনার সূত্রপাত করেন একই এলাকার জহুরুল ইসলাম ও রাকিব আলম নামের দুই যুবক। তাদের উদ্যোগেই প্রেমিক-প্রেমিকাকে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার কথা বলা হয়। পরে উপস্থিত অনেকেই অতিউৎসাহী হয়ে তাদের শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাকিব আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, ‘ওই যুবক-যুবতী অনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন, এ খবর পেয়ে আমরা অনেকেই তাদের হাতেনাতে ধরেছিলাম। যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য বাঁধা হয়। তবে মেয়েটির পায়ে শিকল ও তালা কে মেরেছিল, তা বলতে পারব না।’
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) পাবনা জেলা মনিটরিং অফিসার কামাল আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঈশ্বরদীর সম্মিলিত নাগরিক জোটের আহ্বায়ক মাহ্বুবুর রহমান পলাশ বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সংগঠনের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান লুলুও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনের কার্যকর প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখেছি যে, ঘটনাস্থল ঈশ্বরদী ও পাবনা সদর থানার সীমান্ত এলাকায়। বিষয়টি সদর থানাকে জানানোর পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
পাবনা সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন জানান, ঈশ্বরদী থানার মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ পাঠিয়ে তরুণ-তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ এবং ঘটনার বাস্তবতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এএ


