কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গুরুতর আহত কর্মচারী ফজলুর রহমান এখন সাড়া দিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ডাকলে তিনি চোখ খুলছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্নের জবাব কলম দিয়ে লিখে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা যায় শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রোববার (৭ ডিসেম্বর)।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, ‘ফজলুর রহমানকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা আছে। তাঁকে ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন। চোখ মেলে তাকাচ্ছেন। কিছু জানতে চাইলে কলম দিয়ে লিখতে পারছেন। রাতেই পুলিশের কর্মকর্তারা দুই পাতার লিখিত বক্তব্য নিয়ে গেছেন। ফজলুরের পরিবার আসছে। তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।’
এদিকে নিহত শিক্ষক আসমা সাদিয়ার স্বজনেরা সকাল আটটার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হন। তাঁরা ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। সকাল নয়টার দিকে মর্গের সামনে কথা হয় আসমার মামা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুপুরে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসমা সাদিয়া ছিলেন পরিবারের একমাত্র মেয়ে সন্তান। তাঁর দুই ভাইয়ের একজন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অন্যজন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর বাবা শ ম আশিকুল হক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল বুধবার বিকেল চারটার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হন। একই ঘটনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিএ/এমই


