শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জাতীয় ছাত্রশক্তি যৌথভাবে মানববন্ধন করেছে। এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্রাজ্যবাদ এবং ইরানের ওপর আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানানো। ‘হ্যান্ডস এগেইনস্ট ইমপেরিয়ালিজম’ শিরোনামে মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও মহানগর শাখাসহ বিভিন্ন কলেজের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান মানববন্ধনে বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে রক্তের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। ইরান ও ফিলিস্তিনে হামলা করে লাখ লাখ শিশু, বৃদ্ধ ও যুবককে হত্যা করা হয়েছে। ওই হামলার পর যখন পাল্টা হামলা চালানো হচ্ছে, তখন সেটিকে বলা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ। এ রকম অদ্ভুত এক বিশ্বব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। আমাদের লড়াই এই অদ্ভুত বিশ্বব্যবস্থাকে ভেঙে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল বিশ্বব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি পৃথিবীর কল্পনা করি, যেখানে বিনা দোষে, অন্যায়ভাবে, আইন-আদালতের বাইরে গিয়ে কেউ কাউকে মেরে ফেলতে পারবে না। পৃথিবীতে আইন-আদালত ও বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কেউ অন্য দেশের ওপর হামলা চালাতে পারবে না।’ জাহিদ আহসান ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বর্তমান সরকার নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের ফলে যে সংস্কার বা ‘জুলাই সনদ’ হয়েছে, সেটাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে করা এই রিট তাদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং সংস্কারকে অস্বীকারের প্রচেষ্টা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, যেসব মুসলিম রাষ্ট্র নিজেদের শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি স্থাপন করেছে, তারা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার বাইরে যেতে পারবে না। সারা জীবন তাদের দাসত্বের জীবন কাটাতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করেন, ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করেন।’
তাহমিদ আল মুদ্দাসসির ভারতকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আপনার পাশেও আরেকটা ইসরায়েল আছে। ওই ইসরায়েল একইভাবে আমাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার জন্য বসে আছে। তারা শুধু ছুতো খোঁজে, একটি সুযোগ খোঁজে—কীভাবে আমাদের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করা যায়।’
কর্মসূচিতে মহানগর, ঢাকা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ শাখাসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরাও বক্তব্য দেন।
সিএ/এমই


