সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পেতে সিলেটে বিএনপির অন্তত ৯ জন নারী নেত্রী সক্রিয় তৎপরতা শুরু করেছেন। সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। একই সঙ্গে তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
আলোচিত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দা আদিবা হোসেন, সাবিনা খান (পপি) ও জেবুন নাহার সেলিম। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আদিবা হোসেন ও সাবিনা খান সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। অন্যদিকে জেবুন নাহার সেলিম সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে তাঁরা কেউই শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাননি।
এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আরও যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাঁরা হলেন—বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আইনজীবী হাদিয়া চৌধুরী (মুন্নি), সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রী সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) সামিয়া বেগম চৌধুরী, সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ‘গুম’ হওয়া ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারের বোন তাহসিন শারমিন তামান্না, সিলেট সিটি করপোরেশনের তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট ল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) রোকসানা বেগম শাহনাজ এবং সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা কুমকুম।
আলোচিতদের মধ্যে সৈয়দা আদিবা হোসেন সিলেট-৬ আসনের দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সৈয়দ মকবুল হোসেন (লিচু)–এর মেয়ে। তিনি জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং টাম্পাকো গ্রুপের পরিচালক ও ঢাকা স্টোরিটেলার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারসহ সিলেটের পাঁচটি স্কুল ও একটি কলেজের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন তিনি। বিভিন্ন সামাজিক ও চ্যারিটি কার্যক্রম, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
সৈয়দা আদিবা হোসেন জানান, তাঁর বাবা সংসদ সদস্য থাকাকালে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও শিক্ষা, অবকাঠামো ও সড়ক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও না পেয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন এবং এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
অন্যদিকে সাবিনা খান যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে এবং যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হেমলেটসের সাবেক কাউন্সিলর। জেবুন নাহার সেলিম সিলেট-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দিলদার হোসেন (সেলিম)–এর স্ত্রী। তিনি জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশী সামিয়া বেগম চৌধুরী বলেন, আমি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদল সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। আন্দোলন, সংগ্রামেও ভূমিকা রেখেছি। আশা করছি, দল আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেবে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী জানিয়েছেন, দলের সুসময়ে উড়ে এসে জুড়ে বসা কেউ যেন মনোনয়ন না পান, সে বিষয়টি কেন্দ্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁদের মতে, দুঃসময়ে যাঁরা সক্রিয় ছিলেন এবং সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা উচিত।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত এখনো কেন্দ্র থেকে আসেনি। তবে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন। অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম ও দুঃসময়ের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সিএ/এএ


