দেশের গণপরিবহনে ধূমপানের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে পরিবহনের ভেতরে ধূমপানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে চালক বা হেলপাররা পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। ডেভলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস) ও বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অবস্থা বিষয়ক কমপ্লায়েন্স মনিটরিং সার্ভের ফলাফল প্রকাশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডাসের টিমলিড আমিনুল ইসলাম বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক সিনিয়র সচিব হামিদুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম তাহিন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, নাটাবের প্রকল্প পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, বিইআর-এর প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, এইড ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা আবু নাসের অনিক এবং ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসান সজীবসহ অন্যরা।
গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন ডাসের কনসালটেন্ট আসরার হাবিব নিপু। তিনি জানান, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী গণপরিবহন, বাস টার্মিনাল ও নদীবন্দর ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হলেও বাস্তবায়নে এখনো ঘাটতি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বেসলাইন জরিপে যাত্রীদের মধ্যে ধূমপায়ীর হার ছিল ৪৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে ৩৭ দশমিক ৯৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ৮০ শতাংশের বেশি যাত্রী মনে করেন, গত এক বছরে যানবাহনের ভেতরে ধূমপান কমেছে। এছাড়া ৯৭ শতাংশ যাত্রী ধূমপানমুক্ত গণপরিবহনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ৭১ শতাংশ যাত্রী জানিয়েছেন, টার্মিনাল এলাকায় ধূমপানের পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ যাত্রী ধূমপায়ীদের মুখোমুখি হতে সংকোচ ও সম্ভাব্য বিরোধের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তবুও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানো হলে ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিবহনকর্মীরা ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে যাত্রীরা উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ঘাটতি, প্রয়োগ নির্দেশনার অস্পষ্টতা, জনসমাগমস্থলে ধূমপানকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং জরিমানার সীমাবদ্ধতা আইন বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও যৌথ অভিযান জোরদার, দৃষ্টান্তমূলক জরিমানার ধারাবাহিক প্রয়োগ, চালক ও কন্ডাক্টরের দায়িত্ব নির্দিষ্টকরণ, যানবাহন লাইসেন্সিং ও পরিদর্শনে তামাক নিয়ন্ত্রণ শর্ত সংযোজন, স্থায়ী সাইনেজ স্থাপন, টার্মিনাল এলাকায় তামাক বিক্রি ও ট্যাপস নিষিদ্ধকরণ, পরিবহনকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
সিএ/এএ


