গণভোটের বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে তা দেশের মানুষ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জনগণের রায়কে আদালতে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে এবং প্রয়োজনে তাঁদের রাজপথে নামতে হবে। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা নগরের স্টেশন ক্লাবে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক বছরের পথচলা’ উপলক্ষে এনসিপি সারা দেশে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা “হ্যাঁ”-এর পক্ষে ভোট দিয়ে গণভোটকে জয়যুক্ত করেছি। কিন্তু গণভোটের গণরায়কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদালতে। গণভোটের বৈধতাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে আদালতে। দেশের মানুষ কখনোই এটাকে মেনে নেবে না। যদি জনগণের রায়কে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে আমাদেরও রাজপথে নামতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কার কথা। আমরা জুলাই আন্দোলনের মতো স্লোগান দিতে চাই না—হাইকোর্ট না রাজপথ। কিন্তু এই স্লোগান দিতে আমাদের বাধ্য করবেন না। জাতীয় সংসদ হয়েছে, সংসদকে সংস্কার পরিষদ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সকল সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বিকল্প কোনো কিছুই আমরা মেনে নেব না। জনগণের রায়কে আদালতে নিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না এবং আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করবেন না।’
ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নামে গুজবের ও বিভ্রান্তির স্বাধীনতাকে চর্চা করা হয়। তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুস তখন বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন বলে আমরা এই বাংলাদেশে জুলাইয়ের পক্ষের যে শক্তিগুলো, সেই শক্তিগুলো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার মতো সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিচারের কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে নিয়েছেন, সংস্কারের জন্য গণভোট আয়োজন করেছেন, একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান করে তিনি তাঁর দায়িত্ব সমাপ্ত করেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বস্বীকৃত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব—তাঁকে বাংলাদেশ সরকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে গেজেট প্রকাশ করার কারণে কিছু মিডিয়া বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। যারা এসব বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তাদের বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।’
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘যদিও সরকার গঠন করেছে বিএনপি, কিন্তু ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে ১১-দলীয় জোট। এ ছাড়া গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয় হয়েছে। কিন্তু আমরা সরকার গঠনের পর দেখতে পাচ্ছি, সংস্কার নিয়ে একধরনের চোর-পুলিশ খেলা চলছে। সরকার একদিকে বিরোধীদলকে ডেপুটি স্পিকার দিবে বলে ললিপপ দেখাচ্ছে, অন্যদিকে তারা তাদের দলীয় আইনজীবীদের হাইকোর্টে পাঠিয়ে জুলাই সনদ এবং গণভোটকে অবৈধ হিসেবে রায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আমরা এই ধরনের চালাকি বুঝতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা দেখি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের পাঁয়তারা চলতে থাকে, তাহলে আমরা সারা বাংলাদেশের জনগণ রাজপথে নেমে আসার জন্য প্রস্তুত থাকব।’
ইফতার মাহফিলে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সিএ/এমই


