শীতের বিদায় ও বসন্তের আগমনের সময় দেশে প্রকৃতিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রব। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও মশার দাপটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা নামলেই আবাসিক এলাকা, সড়কপথ ও খোলা জায়গায় মশার প্রকোপ বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা।
কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, বছরের এ সময়টিতে মশার সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। তবে এবার পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি উদ্বেগজনক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার মশা বৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করছেন। তার মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে স্থানীয় সরকার প্রশাসনের কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় মাঠপর্যায়ে তদারকি কমে যায়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে জনবহুল এলাকাগুলোতে মশার প্রজনন বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া ও বর্জ্য অপসারণে ধীরগতির প্রভাব। বৃষ্টি না থাকায় ড্রেন, ডোবা ও নর্দমায় জমে থাকা পানি স্থির থাকে এবং পরিষ্কার না হওয়ায় তা পচে যায়। বসন্তের শুরুতে তাপমাত্রা বাড়ায় এসব স্থানে মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘শুষ্ক সময়ে জমে থাকা পানি যদি সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসন পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিত তাহলে পানি পচতো না। মশার প্রজননের সুযোগও কমে যেত। তবে এখন যে মশাটা আছে তার ৯২ ভাগই কিউলেক্স মশা। এই মশার বংশবৃদ্ধি হয় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার পচা পানিতে।’
তৃতীয়ত, মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, দেশে বহু বছর ধরেই মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। ফগিং বা ধোঁয়া ছিটানোকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম অনেক সময় দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে পরিচালিত হলেও এতে প্রকৃত প্রজননস্থল ধ্বংস হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসইভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় সামনে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশার প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সিএ/এএ


