ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অমর একুশে বইমেলার চতুর্থ দিনেও দর্শনার্থীর ভিড় কম ছিল। এবার মেলার চিত্র আগের বছরের থেকে আলাদা। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আলাদা প্যাভিলিয়ন নেই; মূলত মাঠের উত্তর-দক্ষিণে স্টলের সারি লম্বা করে সাজানো হয়েছে। শিশুচত্বরও আলাদা করা হয়নি। রমজান মাসের কারণে পরিবেশ কিছুটা নিরিবিলি, ফলে পাঠকরা স্বস্তিতে বই যাচাই-বাছাই করতে পারছেন।
বইমেলায় এসেছে দর্শনার্থীরা নানা বয়সী। ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে আসা চন্দন মণ্ডল মাওলা ব্রাদার্সের স্টল থেকে সরদার ফজলুল করিমের অনুবাদ করা প্লেটোর রিপাবলিক বইটি কিনেছেন। তিনি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়ে বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চন্দন বলেন, “না পড়া থাকলে পাঠকের কাছে সব বই নতুন। দর্শন আমার পছন্দের বিষয়। নিরিবিলি পরিবেশ থাকায় স্টলগুলোতে সময় নিয়ে বই দেখা যায়।”
স্বপ্ন-’৭১ প্রকাশনের স্টলে মোড়ক উন্মোচন হলো ভ্রমণলেখক এলিজা বিনতে এলাহীর দেশে দেশে ঐতিহ্য ভ্রমণ বইটির। এতে এশিয়া ও ইউরোপের ১৯টি ঐতিহ্যবাহী স্থানের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। লেখক–গবেষক সারওয়ার মোর্শেদ ও ভ্রমণ সংগঠক আবু জাফর মোড়ক উন্মোচন করেন। এলিজা বলেন, “রোজার মধ্যে মেলা হওয়ায় লোকসমাগম কম মনে হলেও গ্রন্থানুরাগীদের জন্য এটি বিশেষ সুযোগ।”
প্রথমা প্রকাশনের স্টলে শিক্ষক সৈয়দ শাহিনূর রহমান স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে বই কিনতে এসেছেন। শিশুতোষ বইসহ পরিবারের জন্য বই সংগ্রহ করেছেন। স্টলের ব্যবস্থাপক সনাতন বড়াল জানান, বিক্রি মন্দ নয়; বিশেষ করে আলী রীয়াজের বাংলাদেশের সংবিধান: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও ভবিষ্যৎ, মাসউদ আহমাদের উপন্যাস লাবণ্য এবং শাহাদুজ্জামানের একজন কমলালেবু ভালো বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া এল মাহমুদের ভ্রমণবিষয়ক তিন শহর তিন আকাশ: প্যারিস, ম্যানচেস্টার, ভোপাল এবং মহিউদ্দিন আহমদের আমার কথা কইবে পাখি বইও মেলায় এসেছে। শেষের বইটি প্রসিদ্ধ লেখক–চিন্তক আহমদ ছফার জীবন ও সাহিত্যকর্মের স্মৃতিকথা তুলে ধরেছে।
সিএ/এমই


