চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অবৈধভাবে পাহাড়ি জমির মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের কাছে প্রশাসনের অভিযানের তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও প্রতিবারই অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্থান ত্যাগ করতেন। এতে অভিযান কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছিল না।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা অবৈধ মাটি কাটার স্থানের কিছুটা দূরে অবস্থান নিতেন। প্রশাসনের কোনো দল ঘটনাস্থলের দিকে এগোলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে খবর দিতেন। ফলে মাটি ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরে পড়তেন এবং অভিযান ব্যর্থ হয়ে যেত। বিষয়টি নজরে আসার পর তথ্যদাতাদের শনাক্তে তৎপর হয় প্রশাসন।
গতকাল রাতে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মো. রিদুয়ান (২৯), নুরুল আলম (৪৫) ও মো. ইব্রাহিম (৪৫) নামের তিনজনকে জাইল্লাঘাটা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়।
আদালত মো. রিদুয়ানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নুরুল আলম ও মো. ইব্রাহিমকে ১৫ দিনের করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, তিনজনই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তাঁদের ফোনকল রেকর্ড পর্যালোচনায় অভিযানের তথ্য ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানের খবর পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে অবৈধ মাটি বিক্রির অর্থ থেকে একটি অংশ পেতেন তাঁরা। এতে অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে।
জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি অভিযানের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সিএ/এমই


