চট্টগ্রামের হালিশহরের হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তিন শিশু—১০ বছরের উম্মে আইমান, ৬ বছরের ফারহান আহমেদ ও ৪ বছরের আয়েশা। তাদের মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। শিশুরা এখনও জানে না পরিবারের বাকি কেউ বেঁচে নেই।
দুর্ঘটনার বিবরণ:
- সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ফ্ল্যাটটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় বাসায় থাকা ৯ জন দগ্ধ হন, তাদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়।
- শাখাওয়াত হোসেন (৪৯), সামির আহমেদ (৪০) ও শিপন হোসেন (৩০)সহ তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা দগ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শাখাওয়াত ও তাঁর স্ত্রী নুরজাহান বেগম, সামিরের স্ত্রী পাখি আক্তার এবং শিপন হোসেনের।
- দগ্ধ শিশুদের শরীরের দগ্ধের হার: আইমান ৩৮%, ফারহান ৩০%, আয়েশা ৪৫%।
কারণ ও তদন্ত:
- ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড দাবি করছে, গ্যাস লিকেজ হয়নি।
- দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিনটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে—ফায়ার সার্ভিস, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং জেলা প্রশাসন।
স্বজন ও দায়িত্বশীলদের তথ্য:
- প্রবাসী সামির সম্প্রতি দেশে ফিরে চিকিৎসার কারণে চট্টগ্রামে এসেছিলেন।
- শিশুদের খোঁজখবর রাখছেন শাখাওয়াত হোসেনের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী। তিনি বলেন, “তিন শিশুর অবস্থাও ভালো না। তারা শুধু মা–বাবাকে খোঁজে। তারা তো জানে না পরিবারের বাকিদের মৃত্যু হয়েছে।”
সিএ/এমই


