ইরানে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সাময়িকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সব গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে ঢাকায় ফ্লাইট পরিচালনা করা অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও আপাতত তাদের রুট বন্ধ রেখেছে।
ফলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ঢাকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হাজারো বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। তিনি টার্মিনালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং আটকে পড়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ওমরাহ পালন শেষে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার পথে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। মুশফিকুর রহিম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, সকালেই জেদ্দা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ইকে–০৮০৬ ফ্লাইটে উড্ডয়ন করা হয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কারণে সব ফ্লাইট জেদ্দায় ফিরে এসেছে।
এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানায়, দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, দুবাই, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গন্তব্যে তাদের সব ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। যাত্রীদের বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ ছাড়া সরাসরি বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, ইরানে হামলার পর বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ কয়েকটি দেশ সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যে, যাত্রীদের ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য এসএমএস, ই-মেইল এবং কল সেন্টারের মাধ্যমে আগেভাগেই জানাতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দরে এয়ারলাইনসের কর্মীরা উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
সিএ/এমই


