বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জহুরুল ইসলাম নামের এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ কারণে ভাণ্ডারবাড়ি-গোসাইবাড়ি পাকা সড়কটি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, সড়কের পাশের জমি থেকে ভেকু ও ট্রলি ব্যবহার করে মাটি কেটে ট্রাক্টরের মাধ্যমে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। গভীর করে মাটি কাটায় সড়কের কিনারা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী আঞ্চলিক বা গ্রামীণ সড়কের উভয় পাশের ১০ ফুটের মধ্যে কোনো পুকুরের পাড় রাখা যাবে না। নির্ধারিত দূরত্ব ফাঁকা রেখে পাড় বাঁধতে হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়ম না মেনেই পুকুর খননের নামে মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিজের জমিতে পুকুর খনন ও পাড় বাঁধার কথা বলা হলেও বাস্তবে মাটি বিভিন্ন ইটভাটা ও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মাটিবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কম ওজন ধারণক্ষম সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, সারাদিন মাটিবোঝাই ট্রলি চলাচল করছে। অবৈধভাবে মাটি কেটে সড়ক নষ্ট করা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে কাদা জমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শিশু ও বৃদ্ধসহ বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার নিজের জায়গায় পুকুর খনন করে পাড় বাঁধাই করা হচ্ছে। তবে সামান্য কয়েক গাড়ি মাটি গ্রামের মসজিদ-মাদরাসার উন্নয়ন কাজের জন্য বিক্রি করা হচ্ছে। এতে রাস্তাঘাটের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতিলতা বর্মন বলেন, মাটি কেটে বিক্রি করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এএ


