রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) পুলিশ জানায়, এর আগে বুধবার মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই দিনে মোট ১৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজানের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর অঞ্চলের থানা পুলিশ এবং ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ডগ স্কোয়াড বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে যৌথ অভিযান শুরু করে। মাদক-সংশ্লিষ্টসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের ধরতে এ অভিযান রাত ১১টা পর্যন্ত চলে।
চার ঘণ্টার অভিযানে মোট ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি সামুরাই ও দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মনির (৩০), আরিফ (২৫), সোহান (২০), হৃদয় (২৪), সোহেল (২৮), মাহিম ওরফে সায়েম (২২), রমজান (২৩), সাব্যস্ত (২৩), জুবায়ের (২০), রুবেল ওরফে বাদশা (২৫), রিয়াজ (৩০), গোলাপ মোস্তফা (২৯), সানি (২৭), হানিফ (২৮), ফয়সাল (২৯), রহমতুল্লাহ (২৮), জাকির (২৮), আবদুল সালাম (৪৫), রুমন (৩০), হাসান (২৪), রফিক (৩৯), রাব্বি (১৯), রায়হান (৩৯), সোনা ওরফে রানা (২০), আবু আয়ান (২২), নাদিম (৪৩), সামির (২১), শোভা (১৯), জয়নাল আবেদীন (৪০), আকাশ (১৯), আরিফ (২৪), আরিফ (১৮), আবদুর রহমান (১৮), জিহাদ (১৮), রাজু হাওলাদার (২৮), লিটন (২১), সাব্বির (২০) ও রবিউল (১৯)।
প্রায় প্রতিদিনই মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চলছে—এর পরও অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় অন্তত ১৫ লাখ মানুষ বাস করেন। এর মধ্যে তিন থেকে চার লাখ মানুষ ভাসমান। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ ঘটিয়ে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয় ভেবে মোহাম্মদপুরে এসে গা ঢাকা দেন। তবে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, চোর, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজ রয়েছেন।
ডিএমপির মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানান, গত রাতের অভিযানে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, দস্যুতা ও চুরির অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। তিনজনকে আগের গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে মামলা দিয়ে তাঁদের ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সিএ/এমই


