বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে নতুন বছরের শুরুতেই বড় ধরনের চাপ দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে ২২ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। গত অক্টোবরের পর এক মাসে এত বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের নজির দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যয় সংকোচন নীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভরতার প্রবণতা এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
লে-অফস ডট এফওয়াইআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন। প্রতিষ্ঠানটি ২৮ জানুয়ারি একদিনেই ১৬ হাজার কর্মীকে বিদায় জানায়। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুচরা ব্যবসা, ডিভাইস ও ক্লাউড ইউনিটে অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই ছাঁটাই করা হয়েছে। দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোই ছিল এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা তাদের ‘রিয়ালিটি ল্যাবস’ বিভাগ থেকে দেড় হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। এ বিভাগটি মূলত মেটাভার্স নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটির বাজেট পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর ফলে মেটাভার্স সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে কর্মী সংকোচন করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুইডেনভিত্তিক টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম নির্মাতা এরিকসন স্থানীয় বাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গত তিন বছর ধরে মুনাফা ধরে রাখতে ধাপে ধাপে জনবল কমিয়ে আসছে। একই সময়ে অটোডেস্ক এক হাজার এবং পিন্টারেস্ট ৭০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বছরের শুরুতে নতুন বাজেট ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের সময় অনেক প্রতিষ্ঠান এখন মানবসম্পদের বদলে এআই নির্ভর সমাধানের দিকে ঝুঁকছে। এর প্রভাব শুধু বড় প্রযুক্তি কোম্পানিতেই নয়, এআই ও ক্রিপ্টো খাতের ছোট স্টার্টআপগুলোকেও ছাঁটাইয়ের মুখে ফেলছে।
সিএ/এমআর


