কুমিল্লার লাকসামে ঐতিহ্যবাহী নবাব ফয়েজুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘর সংলগ্ন ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি মহলের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সম্পত্তিটি দখলমুক্ত করেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নার্গিস সুলতানার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে লাকসাম থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল অংশ নেয়।
উপজেলা প্রশাসন ও জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, জাদুঘর সংলগ্ন ওয়াকফকৃত জমিতে নবাব ফয়েজুন্নেছার বংশধরদের একটি পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পৌরসভার অর্থায়নে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি পক্ষ ভবনটিতে অবৈধভাবে তালা লাগিয়ে টিনের বেষ্টনী নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
সংবাদ পেয়ে প্রশাসনের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অবৈধভাবে নির্মিত টিনের বেষ্টনী অপসারণ এবং তালা ভেঙে ভবনটি দখলমুক্ত করা হয়।
ইউএনও নার্গিস সুলতানা জানান, কুমিল্লা-৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহযোগিতায় ওয়াকফকৃত সম্পত্তি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মো. দোলোয়ার হোসেন সবুজ নামের এক ব্যক্তি নবাব ফয়েজুন্নেছার কয়েকজন বংশধরের সহায়তায় নিজেকে মোতওয়াল্লী পরিচয় দিয়ে উপজেলা ভূমি ও সেটেলমেন্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ওয়াকফ সম্পত্তি রেকর্ড করে দখলের চেষ্টা করছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রখ্যাত জমিদার নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরাণী জনকল্যাণমূলক কাজে প্রায় ২৯৭ একর ভূমি রাহেলিল্লাহ হিসেবে দালিলিকভাবে ওয়াকফ করে যান। স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে প্রায় ২৯০ একর ভূমি ইতোমধ্যে বেদখল হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট প্রায় সাত একর জমিও দখলের চেষ্টার মুখে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জনকল্যাণে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দখলচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের ধারাবাহিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
নবাব ফয়েজুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই নিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। কোনোভাবেই অবৈধ দখল চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।’
সিএ/এএ


