একসময় স্মার্টফোনে ছবি সম্পাদনা বলতে বোঝাত আলো বা রঙে সামান্য পরিবর্তন। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করেছে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বর্তমান প্রযুক্তিতে ছবির ভেতর অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষ সরিয়ে ফেলা, মেঘহীন আকাশে কৃত্রিম গোধূলি যোগ করা কিংবা ফ্যাকাশে মুখে স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি সজীবতা আনা কয়েক সেকেন্ডের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্মৃতি আর শুধু মানুষের মনের ভেতর আবদ্ধ নয়, বরং স্মার্টফোনের অ্যালগরিদমে রূপ নিচ্ছে তার ডিজিটাল সংস্করণে। আধুনিক স্মার্টফোন পরোক্ষভাবে নির্ধারণ করছে, মানুষের স্মৃতি কেমন রঙিন হবে বা কোন দিকটি কতটা নিখুঁত দেখাবে। একসময় ছবি তোলা হতো মুহূর্ত ধরে রাখার জন্য, আর এখন ছবি তোলা হচ্ছে সেই মুহূর্তকে কৃত্রিমভাবে নিখুঁত করে তোলার উদ্দেশ্যে।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই পরিবর্তন শুধু ছবির সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে না, বরং ধীরে ধীরে মানুষের বাস্তবতাবোধকেও প্রভাবিত করছে। স্মার্টফোনে চাঁদের ছবি তুললে সাধারণত ঝাপসা ফল পাওয়া যায়। তবে কিছু ফোনে ব্যবহৃত উন্নত জুম ও এআই প্রযুক্তির কারণে চাঁদের ছবি এতটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা পেশাদার টেলিস্কোপে তোলা ছবির সঙ্গে তুলনা করা যায়।
এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, অত্যন্ত ঝাপসা চাঁদের ছবিও স্মার্টফোন ক্যামেরা এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করে যে সেখানে এমন সব সূক্ষ্ম বিবরণ ফুটে ওঠে, যা মূল ছবিতে আদৌ ছিল না। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়াকে মানোন্নয়ন হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও এর পেছনে কাজ করে এআই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অ্যালগরিদম, যা আগের হাজারো চাঁদের ছবির তথ্য ব্যবহার করে অনুপস্থিত অংশ পূরণ করে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে সাধারণ মানুষ সহজেই দৃষ্টিনন্দন ছবি তুলতে পারছে, যা একসময় কেবল পেশাদার আলোকচিত্রীদের পক্ষেই সম্ভব ছিল। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—এই ছবি কতটা বাস্তব আর কতটা কৃত্রিম। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন না, তার স্মৃতির ছবিটি কতখানি প্রযুক্তির হাতে বদলে গেছে।
সিএ/এমআর


