২০২৬ সালের অন্যতম উল্লেখযোগ্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে আগামী ৩ মার্চ। ওই দিন একই সঙ্গে পূর্ণিমা ও পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এ সময় আকাশে দেখা মিলবে ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’, যা মূলত রক্তিম আভাযুক্ত একটি পূর্ণচাঁদ। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার আকাশে, পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে এই দৃশ্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
মার্চ মাসের পূর্ণিমাকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘ওয়ার্ম মুন’ বলা হয়। বসন্তের শুরুতে মাটি উষ্ণ হতে থাকলে কেঁচো ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের লার্ভা মাটির ওপর উঠে আসে—এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখেই এমন নামকরণ। অন্যদিকে ‘ব্লাড মুন’ দেখা যায় তখনই, যখন পূর্ণিমার সময় চন্দ্রগ্রহণ ঘটে এবং পৃথিবীর ছায়ার কারণে চাঁদ লালচে বা তামাটে রঙ ধারণ করে।
চন্দ্রগ্রহণ ঘটে যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়। এ সময় সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে গিয়ে চাঁদের ওপর পড়ে, ফলে চাঁদে গাঢ় লাল আভা দেখা যায়। নাসার তথ্যমতে, এবারের পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হবে। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী গ্রহণ চলবে ১১:০৪ থেকে ১২:০৩ পর্যন্ত। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী তা হবে বিকাল ৫:০৪ থেকে ৬:০৩ পর্যন্ত। চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে এর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে রাত ৮:২৩ মিনিটে।
এই চন্দ্রগ্রহণ পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় পুরোপুরি দেখা যাবে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এটি সারারাত দৃশ্যমান থাকবে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাংশে ভোরের দিকে সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে। তবে ইউরোপ ও আফ্রিকার আকাশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে না।
চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখেই নিরাপদে উপভোগ করা যায়। সূর্যগ্রহণের মতো বিশেষ চশমার প্রয়োজন হয় না। তবে দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের রঙের সূক্ষ্ম পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব। পরিষ্কার আকাশ থাকলে আলোকচিত্র ধারণের ক্ষেত্রেও এটি একটি ভালো সুযোগ বলে মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।


