ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করছেন, তারা নিজেরা কোনো অনুরোধ না করলেও হঠাৎ করে মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ই-মেইলে ফেসবুক পাসওয়ার্ড রিসেটের মেসেজ পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বার্তা অবহেলা করা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
ফেসবুক পাসওয়ার্ড রিসেটের অপ্রত্যাশিত মেসেজ সাধারণত সতর্কতার সংকেত হিসেবে বিবেচিত। সাধারণ নিয়মে কেউ অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করে ‘ফরগট পাসওয়ার্ড’ অপশন ব্যবহার করলে রিসেট কোড বা লিংক পাঠানো হয়। ব্যবহারকারী নিজে অনুরোধ না করলে ধরে নিতে হবে, তৃতীয় কোনো পক্ষ অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রথমেই লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকরা ফেসবুকের নামে ভুয়া বা ফিশিং বার্তা পাঠিয়ে নকল ওয়েবসাইটে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে পাসওয়ার্ডসহ সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে। তাই ই-মেইল ঠিকানা, ডোমেইন ও বানান ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
সন্দেহ হলে সরাসরি ব্রাউজারে ফেসবুকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে লগইন করে নোটিফিকেশন পরীক্ষা করতে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে যদি অননুমোদিত লগইন চেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তাহলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত। বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নির্ধারণের পাশাপাশি একাধিক সাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে পাসওয়ার্ড জানা থাকলেও অতিরিক্ত কোড ছাড়া কেউ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। পাশাপাশি কোন কোন ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে লগইন করা হয়েছে তা নিয়মিত যাচাই করে অচেনা ডিভাইস সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অনেক সময় পাসওয়ার্ড রিসেটের মেসেজ আসা মানেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এমন নয়। তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নিলে ব্যক্তিগত ছবি, চ্যাট কিংবা আর্থিক তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


