শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সড়ক দখলমুক্ত করতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বাধা দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযান স্থগিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রোববার (৭ ডিসেম্বর)
সোমবার বিকেলে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রমজানে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান এবং নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান শহরের প্রধান সড়কের দুই পাশে রাখা ব্যবসায়ীদের মালামাল সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানান এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা চালান। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাজার ও উত্তর বাজার এলাকায় সড়ক দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে রাস্তার ওপর রাখা মালামাল জব্দ করতে গেলে ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানান। একপর্যায়ে পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীদের একাংশ আদালতের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের দিকে চড়াও হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অভিযান স্থগিত করে সরে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে দোকানের মালামাল জব্দ করা হচ্ছিল এবং বাইরের স্বেচ্ছাসেবীদের দিয়ে দোকানে প্রবেশ করে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক স্বেচ্ছাসেবীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
নালিতাবাড়ী ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এখতিয়ার প্রশাসনের আছে, আমরা সম্মান করি। কিন্তু বাইরের স্বেচ্ছাসেবীদের দিয়ে দোকানে ঢুকে মালামাল নেওয়ার এখতিয়ার নেই।’
সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের নামে বারবার ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে। খবর পেয়ে গিয়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছি। আমি না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। ‘আজ অভিযান চালাতে গেলে প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আদালতের কৈফিয়ত পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি সত্যি দুঃখজনক।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান জানান, শনিবার ব্যবসায়ীদের রাস্তার ওপর মালামাল না রাখতে অনুরোধ করা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


