গ্রাম আদালত আইন কেন অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রোববার (৭ ডিসেম্বর)
এর আগে ২০০৬ সালের ৯ মে গ্রাম আদালত আইন প্রণয়ন করা হয়। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠনের বিধান রাখা হয় ওই আইনে।
আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রিট আবেদন করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
রিট আবেদনে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক্করণের নীতির পরিপন্থী। রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিষয়ে বিচার পরিচালনা ন্যায়বিচারের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে বিচার পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু গ্রাম আদালতে প্রশিক্ষিত বিচারক নেই, প্রমাণ, আইন ও কার্যবিধির পূর্ণ প্রয়োগ হয় না এবং আইনজীবীর অংশগ্রহণও সীমিত। ফলে ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যাহত হচ্ছে।
রিটে আরও বলা হয়, ভৌগোলিক ভিত্তিতে আলাদা বিচারব্যবস্থা নাগরিকদের সমতার অধিকার (সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ) লঙ্ঘন করে।
হাইকোর্ট রুলের জবাব দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।
সিএ/এমই


