দিন দিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ওপর মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে। রান্নার রেসিপি থেকে শুরু করে সাধারণ অসুস্থতা কিংবা গলা ব্যথার মতো সমস্যার সমাধান খুঁজতেও এখন অনেকেই এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছেন। বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিনে এআইভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সারাংশ ব্যবহারকারীদের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আলাদা করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখার বদলে অনেকেই সরাসরি এআইয়ের দেওয়া উত্তরের ওপর ভরসা করছেন। তবে এই প্রবণতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে এআই ভুল বা বিভ্রান্তিকর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, লিভার ফাংশন টেস্টের একটি অনুসন্ধানে গুরুতর সংক্রমণের ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও ফলাফলকে ‘স্বাভাবিক সীমার মধ্যে’ দেখানো হয়েছিল। এতে রোগী নিজেকে সুস্থ মনে করে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পরে ওই সারাংশ থেকে ‘স্বাভাবিক পরিসর’ সম্পর্কিত অংশ নীরবে সরিয়ে ফেলা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
আরেক ঘটনায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ওয়েবসাইটের বদলে ভিডিও প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট থেকে তথ্য নিয়ে সারাংশ তৈরি করা হয়েছে। প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক মানুষ সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেন। ফলে এমন ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকেরা বরাবরই সতর্ক করে আসছেন যে, অসুস্থতার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনলাইন সার্চের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। উপসর্গ লিখে সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এআই সারাংশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সেই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে, কারণ অনেক ব্যবহারকারী বিস্তারিত তথ্য না পড়ে সরাসরি সারাংশ দেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
এক গবেষণায় জার্মানিতে প্রায় ৫০ হাজার সার্চ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ভিডিও প্ল্যাটফর্মের তথ্য থেকে এআই সারাংশ তৈরি হয়েছে। অথচ দেশটির বড় স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট নেটডক্টর.ডি-এর তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে। সব মিলিয়ে মাত্র ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ এআই ওভারভিউ নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসূত্রের সঙ্গে মিলেছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
তাঁদের মতে, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে, তবে কখনোই চিকিৎসার বিকল্প নয়।
সিএ/এমআর


