নবীজি (সা.) ওফাতের আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে নামাজের ইমামতির দায়িত্ব আবু বকর (রা.)-কে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন ইশার নামাজের সময় নবীজি (সা.) অসুস্থতার কারণে একাধিকবার উঠতে গিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরে পেলেই তিনি জানতে চাইতেন সাহাবিরা নামাজ আদায় করেছেন কি না। শেষে তিনি বলেন, আবু বকরকে নামাজ পড়াতে বলো।
নবীজির (সা.) এই নির্দেশ সাহাবায়ে কেরামের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে নবীজি (সা.) মৃত্যুর আগে কাউকে স্পষ্টভাবে খলিফা নিযুক্ত করে যাননি। তার ইন্তেকালের পর মুসলমানদের নেতৃত্ব নিয়ে সাহাবিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। আবু বকর (রা.) প্রথমে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ও আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.)-এর নাম প্রস্তাব করলেও তারা দুজনই দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আবু বকরকেই খলিফা হওয়ার অনুরোধ করেন।
আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহর (সা.) পরে মুসলমানদের মধ্যে আবু বকরের (রা.) চেয়ে যোগ্য কেউ নেই। তিনি হিজরতের সময় নবীজির সঙ্গে সাওর গুহায় ছিলেন এবং অসুস্থ অবস্থায় নবীজি (সা.) তাকে নামাজের ইমামতি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এসব যুক্তির ভিত্তিতে সাহাবায়ে কেরাম একমত হন যে, আবু বকরই (রা.) খলিফা হবেন।
খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে আবু বকর (রা.) বলেন, “হে মানুষ! আমাকে আপনাদের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অথচ আমি আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই। আমি যদি সঠিক পথে থাকি, তাহলে আমাকে সাহায্য করুন। যদি ভুল পথে থাকি, তাহলে আমাকে সংশোধন করে দিন। আমি যতক্ষণ আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলব, ততক্ষণ আমার আনুগত্য করুন। যদি আল্লাহর অবাধ্য হই, তাহলে আমার আনুগত্য করার প্রয়োজন নেই। শুনে রাখুন! আপনাদের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তি আমার কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী, যতক্ষণ না আমি তার হক আদায় করে দিতে পারি। আর আপনাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি আমার কাছে দুর্বল, যতক্ষণ না আমি তার কাছ থেকে হক আদায় করে নিই। আল্লাহর কাছে আমার ও আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
সিএ/এমআর


