পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি নেতার ছেলে ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুই ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে উপজেলার দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করেন।
ধর্মঘটের খবর পেয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চাঁদাবাজি বন্ধসহ জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। এর ফলে ব্যবসায়ীরা দুপুর ১২টার দিকে দোকান খুলতে রাজি হন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন প্যাদার (৫৫) ছেলে মো. শান্ত প্যাদা (২২) সহ কয়েকজন নিয়মিত তাঁদের দোকান থেকে চাঁদা নিতেন। গত বুধবার থেকে চাঁদা দেওয়া বন্ধ করলে নির্মাণসামগ্রী মালিক সমিতির সভাপতিকে প্রকাশ্যে তিন দিনের মধ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। থানায় লিখিত অভিযোগের পর আজ সমিতির সাধারণ সম্পাদককে ডেকে নিয়ে ধারালো ছুরি দেখিয়ে পুনরায় হত্যার হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে তারা পালিয়ে যান।
দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৩২টি ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে। এরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলার ও কার্গোতে করে রড, সিমেন্ট, বালু, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী এনে ব্যবসা করেন। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি ট্রলার ও কার্গো আসে। অভিযোগ, প্রতিটি ট্রলার বা কার্গোর জন্য শান্ত প্যাদা ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা চাঁদা নিতেন।
নির্মাণসামগ্রী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাউফলকে চাঁদাবাজমুক্ত করবেন। নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা জরুরি সভা করে চাঁদা দেওয়ায় বিরতি দেয়। তবে শান্ত প্যাদা বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদা নিতে গেলে সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী অপারগতা প্রকাশ করেন, যার পর হুমকি দেওয়া হয়।
সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘শান্তর কাছে সব সময় অস্ত্র থাকে। এ কারণে ভয়ের মধ্যে আছি।’ তিনি দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শান্ত প্যাদার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। তাঁর বাবা বিএনপি নেতা সোহরাব হোসেন প্যাদা প্রথম আলোকে বলেছেন, এটি চাঁদাবাজি নয়, বরং জলমহাল ক্রয়ের প্রক্রিয়ার অংশ। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালাইয়া ও দাসপাড়া খাল জলমহাল হিসেবে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর আসনে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না এবং ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারবেন। প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে চাঁদাবাজমুক্ত বাউফল গড়ে তোলা হবে। পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর জানিয়েছেন, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


