বরগুনার বেতাগী উপজেলায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর পরিত্যক্ত থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সোমবার বেলা তিনটার দিকে বেতাগী পৌর মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে তারা প্রবেশ করে। এ সময় তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি দেয়ালে টাঙান এবং দলীয় কার্যালয়ে সাইনবোর্ডও স্থাপন করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামাল শামীম তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা প্রথমে শেখ হাসিনার, পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙিয়ে ফুলের মালা দেন। এরপর প্রধান ফটকে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
সিফাত সিকদার হোয়াটসঅ্যাপে বলেন, ‘১৮ মাস দেশ একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর দখলে ছিল। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, ধানমন্ডি ৩২সহ স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াত শুরু করতে। তাই আমরা বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়েছি এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলীয় ব্যানার স্থাপন করেছি। বিগত সময়েও আমরা বেতাগী উপজেলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।’
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে ছবি ও ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে ছাত্রলীগ বেতাগী দলীয় কার্যালয় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এত দিন দেশে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার ছিল না, তাই নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে যেতে পারেননি। এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে, তাই দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও তালাবদ্ধ করা হয়। এর পর থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের অনেকেই আবার সরব হয়েছেন।
সিএ/এমই


