প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘লাগামহীন ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছে জুলাই সনদ।’ তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, এ সনদের পরিবর্তনের বার্তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে।
আজ সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী আছেন, তারা যদি পাঁচজন মানুষকে পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন তাহলে ৬ লাখ মানুষের রায় আসবে। এ ছাড়া ১ লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী আরও ৫ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার যাতে আর জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, কোনো ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবলে মানুষ যাতে আর নিপীড়িত না হয় সে জন্য জুলাই সনদের কথাগুলো মানুষকে জানাতে হবে। ৫৪ বছরে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগ এসেছে, তা হেলায় হারানো যাবে না।’
অধ্যাপক আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন, ‘স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের অধিক ভোট পায়নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুসারে, সংবিধানের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে। অর্থাৎ যে দল মোট ভোটের মাত্র ৫ শতাংশ পেয়েছে কিন্তু সরকার গঠন করতে পারেনি, তারও পাঁচজন প্রতিনিধিত্ব থাকবে সংসদের উচ্চকক্ষে। আর সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে (কমপক্ষে ৫১ ভোটের সমর্থন)। এর মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তনের ছেলেখেলা বন্ধ হবে।’
রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচারব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুসারেই হতো। এর মানে বিদ্যমান সংবিধানেই স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ খোলা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এত দিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছার কাছে বন্দি না হয়ে পড়ে।’
‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক সম্পর্কে ড. রীয়াজ বলেন, “গোলাপি ব্যালটের ‘টিক চিহ্ন’ই ‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক। আর রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হলে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করতে হবে।”
সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর সালেহ হাসান নকীব সভাপতিত্বে বক্তৃতা দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর খাদেমুল ইসলাম মোল্লা ও নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ছায়েদুর রহমান।
সিএ/এএ


