শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য ভালো ঘুম অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হলে দৈনন্দিন জীবনে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। অথচ অনেকেই অজান্তেই এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তোলেন, যা ধীরে ধীরে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে না যাওয়া ঘুমের বড় শত্রু। কখনো রাত ১১টা, কখনো গভীর রাতে ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম এলোমেলো করে দেয়। ফলে শরীর বুঝে উঠতে পারে না কখন বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। এর প্রভাব পড়ে পরদিনের কাজে, দেখা দেয় সারাদিন ঝিমুনি ও অবসাদ।
ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারও ঘুমের মান নষ্ট করে। মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোন ঘুম পেতে সহায়তা করে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে চোখ রাখলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে এবং ঘুম আসতে দেরি হয়।
বিছানায় বসে কাজ করা বা ফোন ব্যবহার করাও ক্ষতিকর অভ্যাস। এতে মস্তিষ্ক বিছানাকে আর বিশ্রামের জায়গা হিসেবে চিনতে পারে না। ধীরে ধীরে বিছানায় শুলেই ঘুম আসার স্বাভাবিক প্রবণতা কমে যায়।
রাতে ভারী ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলে হজমে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে বুক জ্বালা, অস্বস্তি এবং বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। ভালো ঘুমের জন্য রাতে হালকা খাবার খাওয়া এবং ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা জরুরি।
এ ছাড়া বিকাল বা সন্ধ্যার পর চা-কফির মতো ক্যাফিনযুক্ত পানীয় গ্রহণ এবং ছুটির দিনে অতিরিক্ত দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসও ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তাও ঘুমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখাই ভালো ঘুমের মূল চাবিকাঠি।
সিএ/এমআর


