নিয়মিত হাঁটা শরীর সুস্থ রাখতে সহায়ক—এ কথা সবারই জানা। তবে সামনে হাঁটার পাশাপাশি উল্টো দিকে বা পিছনে হাঁটার অভ্যাসও শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ব্যাক ওয়াকিং বা উল্টো হাঁটা শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে।
ইতালির মিলানের ডিপার্টমেন্ট অফ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড বায়ো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, সাধারণ হাঁটা শরীরকে ফিট রাখলেও উল্টো হাঁটা পেশি, ভারসাম্য ও মস্তিষ্ক—সবকিছুর ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত এ অভ্যাস চিন্তাশক্তিকে তীক্ষ্ণ রাখতে সহায়ক হতে পারে।
গবেষণা অনুযায়ী, দিনে মাত্র ১০ মিনিট পিছনের দিকে হাঁটলে অস্থিসন্ধির ব্যথা কমতে পারে। বিশেষ করে কোমর ও হাঁটুর যন্ত্রণায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি উপকারী। পাশাপাশি কুয়াড্রিসেপ, গুলেট ও শিন মাসেল সক্রিয় হওয়ায় পেশির শক্তিও বাড়ে।
উল্টো হাঁটার আরেকটি বড় সুবিধা হলো ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া। এতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং স্বাভাবিক হাঁটাচলা সহজ হয়। একই সঙ্গে সামনে হাঁটার তুলনায় বেশি ক্যালোরি ঝরে, ফলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষকরা আরও বলছেন, নিয়মিত ব্যাক ওয়াকিং মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এতে স্মৃতিশক্তি উন্নত হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমে এবং মন শান্ত থাকে বলে ধারণা করা হয়।
তবে উল্টো হাঁটা শুরু করার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। প্রথমে ঘরের ভেতর বা খোলা ও নিরাপদ জায়গায় ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ট্রেডমিলে গতি কমিয়ে হাঁটা যেতে পারে। একা না হেঁটে কাউকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটলে নিরাপত্তা বাড়ে। অসমতল জায়গা বা ভিড় এড়িয়ে চলাই ভালো।
সিএ/এমআর


