শীত মৌসুম এলেই সবজির বাজারে ফুলকপির আধিপত্য দেখা যায়। তবে এবছর বাজারে শুধু পরিচিত সাদা ফুলকপিই নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেগুনি, কমলা ও হালকা সবুজ রঙের ফুলকপিও। ভিন্ন রঙের এই ফুলকপিগুলো শুধু দেখতেই আকর্ষণীয় নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
অনেকেই ধারণা করেন, এসব ফুলকপিতে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বাস্তবে রঙিন ফুলকপিগুলো প্রাকৃতিকভাবেই আলাদা জাতের। বেগুনি ফুলকপির রং এসেছে অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থেকে, যা বেগুন ও ব্লুবেরিতেও পাওয়া যায়। কমলা ফুলকপি বিটা-ক্যারোটিনে সমৃদ্ধ, যা চোখ ও ত্বকের যত্নে সহায়ক। আর সবুজ রঙের রোমানেস্কো ফুলকপি দেখতে ফ্র্যাক্টালের মতো গঠনযুক্ত এবং স্বাদে হালকা বাদামি ঘ্রাণযুক্ত।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে সব ধরনের ফুলকপিই কম ক্যালোরিযুক্ত এবং ফাইবার, ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে-তে সমৃদ্ধ। তবে রঙিন ফুলকপিতে অতিরিক্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখে। বেগুনি ফুলকপি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, আর কমলা ফুলকপি চোখের যত্নে বাড়তি সহায়তা দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
রান্নার ক্ষেত্রে রঙিন ফুলকপি ও সাদা ফুলকপির মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য নেই। ভাজি, তরকারি, স্যুপ কিংবা বেক—সব ধরনের রান্নাতেই এগুলো ব্যবহার করা যায়। তবে বেশি সময় সিদ্ধ করলে ফুলকপির রং ও পুষ্টিগুণ কিছুটা নষ্ট হতে পারে। তাই হালকা স্টিম বা অল্প আঁচে রান্না করলে রং ও স্বাদ দুটোই ভালো থাকে।
বাজারে সাদা ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপির দাম কিছুটা বেশি। যেখানে সাদা ফুলকপি ৫০ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে রঙিন ফুলকপির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। চাষ তুলনামূলক কম হওয়ায় দাম বেশি হলেও শহরের সুপারশপ ও বিশেষ সবজির দোকানে এসব ফুলকপির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ভিন্ন স্বাদের আগ্রহ থেকেই অনেক ক্রেতা এগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।
একঘেয়ে খাবারের তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে এবং বাড়তি পুষ্টি পেতে রঙিন ফুলকপি হতে পারে ভালো পছন্দ। একই সবজি হলেও ভিন্ন রঙ ও পুষ্টিগুণ রান্নাঘরে নতুনত্ব এনে দিতে পারে। শীতের বাজারে তাই শুধু দামের দিকে নয়, রঙের দিকেও নজর রেখে ফুলকপি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


