বিয়েবাড়ি বা পারিবারিক দাওয়াতে এক বেলা পেটপুরে খাওয়ার পর অনেকেই ওজন মেপে দেখেন হঠাৎ দুই থেকে তিন কেজি বেড়ে গেছে। এতে মনে প্রশ্ন জাগে, এক রাতেই কি এত চর্বি জমে গেল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে। বাস্তবে এক বেলার খাবারে সরাসরি মোটা হয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার কাইনসিওলজি বিভাগের প্রধান জেমি এ. কুপারের মতে, ভুরিভোজের পর ওজন যেটা বেশি দেখা যায়, তার বড় অংশই চর্বি নয়, বরং পানি ও লবণের প্রভাব। তিনি বলেছেন, ‘ভুরিভোজের পরদিন সকালে নিজের ওজন দেখে যে ধাক্কাটা আমরা খাই, তার পেছনে মূল কারিগর পানি এবং লবণ।’
উৎসবের খাবারে সাধারণত লবণের পরিমাণ বেশি থাকে, যা শরীরকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পোলাও, বিরিয়ানি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে গিয়ে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা হয়। গ্লাইকোজেন পানির অণুর সঙ্গে যুক্ত থাকতে ভালোবাসে, ফলে সাময়িকভাবে শরীরের পানির ওজন বেড়ে যায়। এ ছাড়া খাওয়া খাবারের নিজস্ব ওজনও কিছু সময় শরীরে থেকে যায়, যতক্ষণ না তা হজম হয়ে বেরিয়ে আসে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরে প্রায় আধা কেজি চর্বি জমতে হলে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ক্যালরি গ্রহণ করতে হয়। এক বেলার দাওয়াতে, যত বড় আয়োজনই হোক না কেন, এত অতিরিক্ত ক্যালরি খাওয়া সাধারণত কঠিন। তাই এক বেলার ভুরিভোজে হঠাৎ করে মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন উৎসবের রেশ ধরে টানা কয়েক দিন বেশি খাওয়া চলতে থাকে। ফ্রিজে রাখা বিরিয়ানি, মিষ্টি বা কেক পরপর কয়েক দিন খেলে ক্যালরি গ্রহণ দ্রুত বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, টানা চার দিনের ছুটিতে কেউ প্রতিদিন অতিরিক্ত ৯০০ ক্যালরি করে খেলে সপ্তাহ শেষে প্রায় আধা কেজি চর্বি জমতে পারে। এমনকি ছুটির সময়ে বাড়ানো ওজনের একটি বড় অংশ পরে আর কমেও না।
ড. কুপারের পরামর্শ হলো, খাবার উপভোগ করুন, কিন্তু অপরাধবোধে ভুগবেন না। এক বেলা বেশি খেলে পরের বেলা হালকা খাবার বেছে নিন। প্রিয় খাবার অল্প পরিমাণে খান, কোমল পানীয়ের বদলে পানি পান করুন এবং উৎসব শেষে আবার নিয়মিত রুটিনে ফিরে আসুন। মাঝেমধ্যে এক বেলা ভুরিভোজে ওজন সামান্য বাড়লেও তা বেশিরভাগ সময়ই সাময়িক।
সিএ/এমআর


