মানসিক চাপ সাধারণত শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তবে বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে তা সহায়ক হতে পারে। পরীক্ষার হলের টেনশন বা ভয়মিশ্রিত মুহূর্তগুলো জীবনের সাধারণ দিনের তুলনায় আমাদের অনেক বেশি স্পষ্ট মনে থাকে। কেন এমন হয়? ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।
গবেষকরা দেখেছেন, কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন আমাদের আবেগপূর্ণ স্মৃতিগুলো মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংরক্ষণে সাহায্য করে। ইয়েলের সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এলিজাবেথ গোল্ডফার্ব একটি পরীক্ষা পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের দুই ভাগে ভাগ করে একদলকে কর্টিসল যুক্ত ওষুধ দেওয়া হয় এবং অন্যদলকে প্লাসেবো। এরপর এমআরআই-তে তাদের মস্তিষ্কে ছবি দেখানো হয়। পরবর্তী দিনে স্মৃতি যাচাই করার সময় দেখা যায়, কর্টিসল গ্রহণকারী অংশগ্রহণকারীরা আবেগসম্পন্ন ছবিগুলো আরও স্পষ্টভাবে মনে রাখতে পেরেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, কর্টিসল মস্তিষ্কের আবেগ ও স্মৃতি সংরক্ষণের টিমের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করে। এর ফলে আমাদের মস্তিষ্ক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো “ভোলা যাবে না” এমন সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করে। এলিজাবেথ গোল্ডফার্ব বলেন, স্ট্রেস সবসময় ক্ষতিকর নয়। প্রকৃতি আমাদের তৈরি করেছে যেন বিপদের মুহূর্তগুলো মনে রাখা যায় এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকা সম্ভব হয়।
গবেষকরা পরামর্শ দেন, নতুন কোনো তথ্য শিখতে চাইলে তা আবেগের সঙ্গে যুক্ত করলে মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় ধরে তা মনে রাখে। পড়াশোনা যদি মজার ও আবেগপূর্ণ হয়, তবে কর্টিসল কার্যক্রম স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কার্যকর হয়।
সিএ/এমআর


