সুস্থ থাকতে দিনে আট গ্লাস পানি পান করার ধারণা বহুদিনের। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এই নিয়ম সবার জন্য একভাবে প্রযোজ্য নয়। বয়স, লিঙ্গ, শরীরচর্চা, আবহাওয়া ও জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী পানির চাহিদা ভিন্ন হয়ে থাকে।
পুষ্টিবিদ ও সার্টিফায়েড ডায়েটিশিয়ান কিরণ কুকরেজা জানিয়েছেন, অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সভেদে পানির পরিমাণ আলাদা। ছোট শিশুদের দৈনিক পানির চাহিদা তুলনামূলক কম হলেও কিশোর বয়সে তা দ্রুত বাড়ে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পুরুষদের দৈনিক পানির প্রয়োজন প্রায় ৩ লিটার এবং নারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ২.১ লিটার। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পানির চাহিদা আরও বেশি হয়, কারণ এতে মা ও শিশুর উভয়ের সুস্থতা জড়িত।
গরম আবহাওয়া, ভারী শারীরিক পরিশ্রম বা নিয়মিত ব্যায়ামের সময় শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়ে যায়। এ অবস্থায় পানির ঘাটতি পূরণ না হলে ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে। কম পানি পান করলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, হজমের সমস্যা, ত্বকের শুষ্কতা এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে শরীরের সংকেত বুঝে পানি পান করাই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
সিএ/এমআর


