শরীরচর্চা মানুষের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক ও আধ্যাত্মিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দ্রুত হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা সাঁতার কাটার মতো ব্যায়ামে শ্বাস-প্রশ্বাস গভীর হয়, রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমিয়ে আনন্দ ও সতেজতা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ শরীর ইবাদতে মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়াতে সহায়ক।
প্রথমত, নিয়মিত ব্যায়াম ক্লান্তি দূর করে ইবাদতে সক্রিয়তা বাড়ায়। শরীরচর্চা না করলে সহজেই অবসাদ দেখা দেয়, ফলে ইবাদতে আগ্রহ কমে যায়। কিন্তু শরীর সচল থাকলে ফজরের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত কিংবা অতিরিক্ত আমলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
দ্বিতীয়ত, শরীরচর্চা শৃঙ্খলা গড়ে তোলে। নির্দিষ্ট সময় ধরে ব্যায়াম করার অভ্যাস মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করে। এই শৃঙ্খলা জীবনের অন্যান্য ইবাদতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নিয়মিত আমলের অভ্যাস গড়ে ওঠে।
তৃতীয়ত, ব্যায়াম মানসিক স্বচ্ছতা ও প্রশান্তি এনে দেয়। আধুনিক জীবনের দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ ইবাদতে একাগ্রতা নষ্ট করে। শরীরচর্চার মাধ্যমে রক্তসঞ্চালন বাড়লে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায়, চিন্তার স্বচ্ছতা ফিরে আসে এবং অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি হয়।
চতুর্থত, নিয়মিত ব্যায়াম একাগ্রতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে। মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়লে নামাজে খুশু অর্জন সহজ হয়। সুস্থ শরীর দীর্ঘ সময় ইবাদতে স্থির থাকতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর আল্লাহর দেওয়া এক আমানত। শরীরকে সুস্থ রাখা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ ও সক্রিয় জীবনযাপন এই আমানতের হেফাজতের অংশ। সুস্থ শরীর মানুষকে ইবাদত ও মানবসেবায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।
সিএ/এমআর


