নবম জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের সভা শেষ হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে কমিশনের এই গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষ হয়।
সভা সূত্রে জানা যায়, নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বর্তমানের তুলনায় ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
পে কমিশনের সুপারিশে পেনশনভোগীদের জন্যও উল্লেখযোগ্য সুবিধার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যেসব পেনশনভোগী বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের পেনশন শতভাগ বা দ্বিগুণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া যেসব পেনশনভোগী মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশন সূত্র জানায়, পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রবীণ পেনশনভোগীদের চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিও সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। পাশাপাশি ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পে কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন বেতন ও পেনশন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
সিএ/এএ


