ব্যস্ত জীবনে অধিকাংশ মানুষই অনিয়মিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই রাতে দেরিতে ঘুমাতে যান এবং সকালেও দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন। এর ফলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত জীবনযাপন এবং শরীরের প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুললে সারাদিন সতেজ থাকা সম্ভব এবং মিলতে পারে নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা।
সকালে ঘুম থেকে উঠলে মাথা থাকে পরিষ্কার ও সতেজ। এতে সারাদিনের কাজের পরিকল্পনা সহজে করা যায় এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে। সময় ব্যবস্থাপনা ভালো হওয়ায় উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পায়।
ভোরে ওঠার ফলে শরীরচর্চার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি কমে। সকালের হালকা ব্যায়াম শরীরকে সারাদিন কর্মক্ষম রাখে।
তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে উঠলে ঘুমের সময়সূচি সঠিক নিয়মে ফিরে আসে। এতে রাতে ভালো ঘুম হয় এবং ঘুমজনিত সমস্যা কমে যায়। নির্দিষ্ট সময়ের ঘুম শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সকালের সূর্যালোকে কিছু সময় কাটালে শরীরে ভিটামিন ডি-এর উৎপাদন বাড়ে। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। শরীর সহজেই অসুখের সঙ্গে লড়াই করতে পারে।
ভোরে ওঠার কারণে সকালের নাশতার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। এতে প্যাকেটজাত খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া সম্ভব হয়, যা শরীরের জন্য উপকারী।
সকালের শান্ত পরিবেশে কিছু সময় নিজের জন্য কাটানো গেলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে। যোগব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন বা ধ্যান মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া সকালে চারপাশে তুলনামূলক কম ব্যস্ততা থাকায় কাজে একাগ্রতা বাড়ে। মনোযোগ দিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সহজ হয়। নিয়মিত ভোরে ওঠার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবন গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
সিএ/এমআর


