রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বসবাসরত কাঁচা ঘরের বাসিন্দাদের জন্য পাকা ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাটে থাকার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ধাপে ধাপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। কড়াইলবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বস্তিবাসীদের আবাসনসংকট নিরসনের আশ্বাস দেন।
বস্তিবাসীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা কষ্ট করছেন, থাকার কষ্ট করছেন, সেই কষ্টটি আমরা ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমরা এখানে উঁচু উঁচু বড় বড় বিল্ডিং করে দিতে চাই আল্লাহর রহমতে। এবং এই খানে যে মানুষগুলো থাকেন, তাঁদের নামে রেজিস্ট্রি করে আমরা প্রতিটি ছোট ফ্ল্যাট করব এবং সেই ফ্ল্যাটগুলো তাঁদের নামে আমরা দিতে চাই।’
কড়াইল বস্তির পটভূমি তুলে ধরে জানা যায়, গত শতকের নব্বইয়ের দশকে তিনটি সরকারি সংস্থার প্রায় ৯৩ একর জমি দখল করে গড়ে ওঠে এই বস্তি। বর্তমানে রাজধানীর সবচেয়ে বড় এই বস্তিতে প্রায় ৪০ হাজার ঘরে নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস।
আবাসনের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি এখানে আপনাদের যে সন্তানেরা আছে, তাদের এখানে লেখাপড়ার সমস্যা আছে। আল্লাহ যদি রহম করেন আমরা এখানে চাই বাচ্চাদের জন্য সুন্দর স্কুল গঠন করব। স্কুলের পাশাপাশি তাদের খেলাধুলার যাতে পরিবেশ থাকে, খেলাধুলার জন্য যাতে মাঠ থাকে, সেই ব্যবস্থাও ইনশা-আল্লাহ আমরা এখানে করতে চাই।’
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে যাতে সমস্যা না হয়, আপনাদের যাতে দূরে যেতে না হয়, আপনাদের এলাকার মধ্যে ক্লিনিক থাকবে, হাসপাতাল থাকবে—সবকিছু থাকবে। এইভাবে আমরা আপনাদের এই এলাকাকে গড়ে তুলতে চাই। এইভাবে সাজিয়ে তুলতে চাই।’
দোয়া মাহফিলে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কড়াইল বস্তির বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা অংশ নেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, কড়াইল বস্তি ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, এটা নির্বাচন আচরণবিধিতে পড়বে কি না, কেউ ষড়যন্ত্র করবে কি না। কিন্তু আমি যা করতে চাই, আমি আল্লাহর রহমত নিয়ে সবকিছু করতে চাই।’
সিএ/জেএইচ


