বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা পড়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সময়ের সঙ্গে ত্বককে টানটান ও দৃঢ় রাখার গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন কোলাজেন ও ইলাস্টিনের মাত্রা কমতে থাকে। এসব উপাদানের ঘাটতিতে ত্বক ধীরে ধীরে শুষ্ক ও পাতলা হয়ে যায় এবং নিচের চর্বির স্তরও হ্রাস পায়, যার ফলে বলিরেখা তৈরি হয়। এর পাশাপাশি বংশগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপনের ধরন, পরিবেশ দূষণ, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও অতিরিক্ত সূর্যের আলোতেও ত্বকের দ্রুত বার্ধক্য দেখা দিতে পারে।
অনেকে বলিরেখা কমাতে বিভিন্ন ধরনের লোশন, দামি কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। তবে নিয়মিত ও সঠিকভাবে কিছু প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা সম্ভব এবং ধীরে ধীরে বলিরেখা কমতেও সাহায্য করে। এসব তেল ত্বককে পুষ্টি জোগায়, কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং ত্বকের স্বাভাবিক জৌলুস ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।
ন্যাচারাল অয়েল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং রুক্ষতা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকর। ল্যাভেন্ডার তেল ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামতে সহায়তা করে, রোজমেরি অয়েল ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে এবং চন্দন তেল ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেট করে তোলে। তবে এসব এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি ত্বকে ব্যবহার না করে নারিকেল তেল বা অন্য ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে লাগানো নিরাপদ।
অলিভ অয়েল শুধু রান্নার জন্য নয়, ত্বকের যত্নেও অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা পলিফেনল, বিশেষ করে ওলিওক্যান্থাল ও ওলিএসিন ত্বকের বলিরেখা কমাতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে। অলিভ অয়েল ত্বককে গভীরভাবে হাইড্রেট করে এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও কোমল থাকে।
জোজোবা অয়েল ত্বকের প্রাকৃতিক সিবামের মতো হওয়ায় সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী। এটি ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং তেল উৎপাদনে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন ‘ই’ অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে কাজ করে, ফলে ত্বকের বলিরেখা কমে এবং ত্বক দীর্ঘদিন তরুণ থাকে।
ভিটামিন ‘ই’ তেল শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটি ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে, কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে এবং অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। সাধারণত এই তেল অন্যান্য ক্যারিয়ার তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে ত্বক সহজে তেল শোষণ করতে পারে এবং পুষ্টি গ্রহণ আরও কার্যকর হয়।
সিএ/এমআর


