অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাদ্যতালিকায় চিনি কমালে শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। চিনি কমানো মানে মিষ্টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া নয়; এর পরিবর্তে ফল, বাদাম বা প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করা যেতে পারে। ধীরে ধীরে চিনি কমালে শরীর ও মানসিক অবস্থার দুই দিকেই পরিবর্তন অনুভূত হয়।
প্রথমত, চিনি কমালে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে। চিনি দ্রুত ক্যালরি বাড়ায় কিন্তু দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখে না। এতে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। চিনি কমালে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ধীরে ধীরে ওজনও কমতে শুরু করে।
দ্বিতীয়ত, ত্বক উজ্জ্বল হয়। অতিরিক্ত চিনি ইনসুলিন বাড়িয়ে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার প্রভাব দেখা যায় ত্বকে—ব্রণ, ফুসকুড়ি বা নিস্তেজ ভাব। চিনি কমালে এসব সমস্যা কমে এবং ত্বক উজ্জ্বল ও তরতাজা হয়ে ওঠে।
তৃতীয়ত, শক্তি ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। চিনি রক্তে গ্লুকোজের দ্রুত ওঠানামা ঘটায়, ফলে হঠাৎ শক্তি পাওয়া যায় আবার দ্রুত ক্লান্তি আসে। চিনি কমালে রক্তে শর্করা স্থিতিশীল থাকে, ফলে সারাদিনে শক্তি ধরে রাখা সহজ হয়।
চতুর্থত, হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো থাকে। চিনি কমালে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমে, যা হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
পঞ্চমত, ঘুমের মান উন্নত হয়। চিনি শরীরে কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধি করে, যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। চিনি কমালে মানসিক প্রশান্তি আসে এবং ঘুম গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন হয়।
ষষ্ঠত, দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্যে উন্নতি হয়। চিনি দাঁতের ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। মুখের ব্যাকটেরিয়া চিনি ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতের ক্ষয় ঘটায়। চিনি কমালে দাঁত মজবুত থাকে এবং ক্যাভিটির ঝুঁকি কমে।
সপ্তমত, মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত চিনি খেলে অস্থিরতা, মেজাজ খারাপ ও উদ্বেগ বেড়ে যায়। চিনি কমালে মন ভালো থাকে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিএ/এমআর


