রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রশ্নফাঁস, ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন একদল নিয়োগপ্রত্যাশী। আন্দোলনকারীরা একই সঙ্গে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন এবং দাবি মেনে নেওয়া না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বেলা ১১টার দিকে প্রাথমিক অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। এ সময় তারা নানান স্লোগান দেন, যেমন ‘প্রশ্ন ফাঁস চলবে না, চলবে না’; ‘প্রশ্নফাঁস হটাও, শিক্ষা বাঁচাও’; ‘মেধাবীরা বঞ্চিত কেন, ডিপিই জবাব চাই’; ‘পরিশ্রমের মর্যাদা নেই’।
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো—
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত নতুন পরীক্ষা নেওয়া হোক।
সকল চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হোক এবং প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার বসানো হোক।
স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে তার আওতায় সকল পরীক্ষা নেওয়া হোক। একই দিনে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
যেসব প্রতিষ্ঠান গত বছর প্রশ্ন ফাঁসের দাগ রয়েছে, তাদের আর প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হলে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানকে স্বেচ্ছায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা ছাড়া) সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। পরীক্ষা শুরুর কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে ফাঁসকৃত প্রশ্ন শেয়ার করেন।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের একটি অংশ থেকে হুবহু কয়েকটি প্রশ্ন পরীক্ষায় এসেছে। এছাড়া ২৫ ডিসেম্বর জেলা পর্যায়ে প্রশ্নপত্র পাঠানোর পর প্রায় দুই সপ্তাহে পরীক্ষা নেওয়ায় চক্রের হাতে প্রশ্নপত্র চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরীক্ষা ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ডিভাইস পার্টি’, যারা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের ডিভাইস সরবরাহ করে পরীক্ষা চলাকালীন উত্তর জানিয়ে দেয়। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ডিভাইস পার্টি ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল। তবে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর কিছু জেলায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযান চালানো হয়। এর ফলে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬ এবং রংপুরে দুইজনসহ শতাধিক পরীক্ষার্থী জালিয়াতিতে ধরা পড়েছেন।
অন্যদিকে অনেক পরীক্ষা জালিয়াতি ও অনিয়ম সহকারে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কক্ষ পরিদর্শকরাও জালিয়াতিতে সহযোগিতা করেছেন এবং কিছু জেলায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা কম থাকায় পরীক্ষা অনিয়মপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিএ/এমআর


