পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির সম্প্রতি এক আবেগঘন ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ২০২৫ সালের তার জীবনের উত্থান-পতন, আতঙ্ক, শোক ও স্থিতিস্থাপকতার অভিজ্ঞতা ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ২০২৫ সাল তার জন্য একইসঙ্গে ‘সবচেয়ে খারাপ এবং সবচেয়ে ভালো সময়ের’ অনুভূতি এনে দিয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ওই পোস্টে হানিয়া আমির মোট ২০টি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিগুলোতে শুটিং সেটের মুহূর্ত, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা ছোট ছোট মুহূর্ত উঠে এসেছে। দীর্ঘ ক্যাপশনে তিনি তার পুরো বছরের মানসিক উত্থান-পতন ও আত্মঅনুসন্ধানের কথাও তুলে ধরেন।
পোস্টে হানিয়া লিখেছেন, একসময় তার বিশ্বাস ছিল যে কোনো দুঃখ এড়িয়ে বেঁচে থাকার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। তবে জীবন তাকে বুঝিয়েছে যে সেই ধারণা ভুল ছিল। এই উপলব্ধি তাকে বদলে দিয়েছে এবং শিখিয়েছে আত্মবিশ্বাস কতটা ভঙ্গুর হতে পারে।
নিজের বাহ্যিক সংযম ও ভেতরের কষ্টের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন মানুষ সেটে হাসতে পারেন, ক্যামেরার সামনে ফুল হাতে পোজ দিতে পারেন, অথচ ভেতরে ভেতরে আতঙ্কে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় যা অন্য কেউ দেখতে পায় না। তার মতে, অনেক সময় শক্তি মানে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে দৃঢ় রাখা।
অভিনেত্রী আরও জানান, ২০২৫ সালে তার অনেক রাত কেটেছে মানসিকভাবে ক্লান্তিকর। একই সঙ্গে বছরটি তাকে সমর্থন ও পরিপূর্ণতার অপ্রত্যাশিত মুহূর্তও উপহার দিয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর তার এমন কিছু সুযোগ এসেছে যার জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন। এই কাজগুলো তাকে উপহার হিসেবে অনুভূত হয়েছে, যেখানে আনন্দ এসেছে নিঃশব্দে। ভালোবাসা ছিল শান্ত ও স্থির, আর বছরের শেষটা কেটেছে এমন মানুষের সঙ্গে, যারা তাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন—উষ্ণতা আবার ফিরে আসতে পারে।
পোস্টের শেষ ভাগে হানিয়া ২০২৫ সালকে পরীক্ষা ও ধৈর্যের বছর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, তিনি হেসেছেন, কেঁদেছেন, টিকে থেকেছেন এবং সামনে এগিয়ে গেছেন। এই পোস্টের সময়ে তিনি ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ ড্রামা সিরিজে অভিনয়ের জন্য আলোচনায় রয়েছেন। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন বিলাল আব্বাস খান।
সিএ/জেএইচ


