ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলার তীব্রতায় সোমবার দিবাগত রাতটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ রাতগুলোর একটি হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন আল–জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল। তেহরান থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে তিনি জানান, কয়েক ঘণ্টা ধরে একের পর এক বিস্ফোরণে পুরো শহর কেঁপে উঠেছে। বিস্ফোরণের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে সেগুলো গণনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
মোহাম্মদ ভাল বলেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় তেহরানে অবস্থিত আল–জাজিরার কার্যালয়ের জানালাও কেঁপে ওঠে। একই সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে তিনি জানান, তেহরানের উত্তরের কারাজ এলাকাতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়েছে।
পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে। অপর এক প্রতিবেদনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে বলা হয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৪০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।
সোমবার দিবাগত রাতে তেহরানের আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে পূর্ব তেহরানের আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আলোর ঝলকানি বারবার দেখা গেছে, যা থেকে বোঝা যায় যে আকাশপথে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চলছিল।
এদিকে ইরানের ইসফাহান শহরেও তীব্র বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে গভর্নরের কার্যালয় এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি প্রাচীন রাজপ্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তাবরিজ অঞ্চল থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
কিছু সূত্রের দাবি, ইসফাহানের বিস্ফোরণগুলো দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ইসফাহানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এ তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের ঘোষিত অভিযানের ‘৩৩তম তরঙ্গ’ শুরু হয়েছে।
এক বিবৃতিতে রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর জানায়, এখন থেকে তারা এক হাজার কেজির কম ওজনের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে না। তাদের দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে এবং পুরো অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আরও ভারী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতজুড়ে চলা এসব হামলায় ইরানের বিভিন্ন শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সিএ/এমই


