যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে রবিবার (২৬ জানুয়ারি) এই দুর্যোগ আঘাত হানে। ঝড়ের প্রভাবে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ জনগণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার আহ্বান জানিয়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে জনজীবনে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও হিমশীতল বৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ঝড়ের পেছনে থাকা আর্কটিক শীতল বায়ু কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় নামিয়ে দেবে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানায়, আগামী সপ্তাহজুড়ে তুষার ও শিলাবৃষ্টির প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় সড়ক ও ফুটপাত দীর্ঘ সময় বরফাচ্ছন্ন থাকবে, যা যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
রবিবারের ঝড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সেখানে হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, সপ্তাহের শেষভাগে হিমশীতল আবহাওয়ার মধ্যে শহরের বাইরে পাঁচজনের লাশ পাওয়া গেছে। তবে এসব মৃত্যু সরাসরি আবহাওয়াজনিত কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার তথ্য অনুসরণকারী সংস্থা পাওয়ার আউটেজ ডট কম জানায়, শনিবার (২৫ জানুয়ারি) ঝড়ের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত সারা দেশে এক কোটিরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। টেনেসিতে বরফ জমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় তিন লক্ষাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ হারান।
লুইজিয়ানা, মিসিসিপি ও জর্জিয়ায় এ ধরনের ঝড় তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও প্রতিটি রাজ্যেই লক্ষাধিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। প্রচণ্ড শীতে আক্রান্ত দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এনডব্লিউএস সতর্ক করেছে, এই শীতপ্রবাহ নতুন তাপমাত্রা রেকর্ড গড়তে পারে। টেক্সাস থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। টেক্সাসের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে অত্যাবশ্যক না হলে বাইরে না আসার সতর্কবার্তা দেয়।
রবিবার ঝড়টি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হলে ফিলাডেলফিয়া, নিউ ইয়র্ক ও বোস্টনের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে তুষার ও শিলাবৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী ওয়াশিংটনের বাসিন্দারা সকালে সড়ক ও ফুটপাতে কয়েক ইঞ্চি পুরু তুষারের স্তর দেখতে পান।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দিনের জন্য ফেডারেল দপ্তরগুলো আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়াশিংটন, ফিলাডেলফিয়া ও নিউ ইয়র্কের একাধিক বড় বিমানবন্দরে ওই দিনের প্রায় সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটএওয়্যার ডট কম জানায়, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার চার হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সোমবারের জন্যও আগেই প্রায় আড়াই হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘এই ঝড়ের পথে থাকা সব অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’ তিনি সবাইকে নিরাপদ ও উষ্ণ থাকার আহ্বান জানান।
সিএ/এএ


