ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন চাপের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মতপার্থক্যে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ আর গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়াশিংটন থেকে বারবার নির্দেশ আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সময় রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আনজোতেগুইতে তেলশ্রমিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ডেলসি রদ্রিগেজ এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে তুলে নেওয়ার ঘটনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদদের ওপর ওয়াশিংটন থেকে যথেষ্ট আদেশ এসেছে। তিনি বলেন, দেশের ভেতরের মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ভেনেজুয়েলার জনগণ নিজেরাই সমাধান করবে। বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর নয়, যথেষ্ট হয়েছে।’
এর আগে নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নিয়ে ডেলসি রদ্রিগেজের একটি ভিডিও ফাঁস হয়। ওই ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, মাদুরোকে আটক করার পর মার্কিন বাহিনী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের দাবির বিষয়ে মাত্র ১৫ মিনিট সময় বেঁধে দিয়েছিল। দাবি পূরণ না হলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
ভিডিওতে রদ্রিগেজকে বলতে শোনা যায়, প্রেসিডেন্ট অপহরণের প্রথম মুহূর্ত থেকেই হুমকি শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো, সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওই অভিযানের সাত দিন পর ভেনেজুয়েলায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী একটি বৈঠকের আরেকটি ফাঁস হওয়া ভিডিও প্রকাশ পায়। সেখানে ডেলসি রদ্রিগেজকে বলতে শোনা যায়, তার অগ্রাধিকার ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখা।
স্থানীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন লা ওরা দে ভেনেজুয়েলা প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পর শাসকগোষ্ঠীর অবশিষ্ট সদস্যরা পুনরায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে।
সিএ/এসএ


