২৬ জানুয়ারি ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত কুচকাওয়াজে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জমকালো প্রদর্শন দেখা গেছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও জাতীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়।
এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর’। কুচকাওয়াজে ভারতের উন্নয়নযাত্রা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামরিক প্রস্তুতির সমন্বিত চিত্র উপস্থাপন করা হয়। সামরিক প্রদর্শনের পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন রাজ্যের ট্যাবলো, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর শৃঙ্খলাবদ্ধ মার্চপাস্ট।
প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতের প্রধান সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে প্রদর্শিত হয় সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মোস, আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গভীর আঘাত হানতে সক্ষম রকেট লঞ্চার সিস্টেম ‘সূর্যাস্ত্র’ এবং প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্ক অর্জুন। এগুলো ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও দেশীয় প্রযুক্তির অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এছাড়া প্রথমবারের মতো কুচকাওয়াজে অংশ নেয় নতুন ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন এবং শক্তিবান রেজিমেন্ট। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন মূলত সীমান্ত এলাকায় দ্রুত ও বিশেষ অভিযানের জন্য গঠিত একটি ইউনিট। অন্যদিকে শক্তিবান রেজিমেন্ট একটি আধুনিক ড্রোন স্কোয়াড্রন, যা ভারতের সামরিক নজরদারি ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মকর্তারা জানান, এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের মাধ্যমে ভারত তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, উন্নয়ন দর্শন এবং প্রতিরক্ষা শক্তিকে একসঙ্গে উপস্থাপন করেছে। নতুন ইউনিট ও আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থার প্রদর্শন দেশের সামরিক প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ কৌশলগত দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত দেয়।
সিএ/এসএ


