শিশুদের স্থূলতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে টেলিভিশন ও অনলাইনে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অতিরিক্ত চর্বি, চিনি ও লবণযুক্ত খাবার ও পানীয়ের বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে রাত ৯টার আগে সম্প্রচার করা যাবে না। একই সঙ্গে অনলাইনে এসব বিজ্ঞাপন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত ওবেসিটি বা স্থূলতা মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। স্থানীয় সময় সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়া এই বিধিনিষেধের মূল লক্ষ্য শিশুদের জাঙ্ক ফুডের প্রলোভন থেকে দূরে রাখা এবং তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহিত করা।
নতুন নিয়মে যেসব খাবার ও পানীয়ের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সফট ড্রিংকস, চকলেট, পিৎজা, আইসক্রিম, নির্দিষ্ট ধরনের ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, পোরিজ, মুসলি, মিষ্টি রুটি ও স্যান্ডউইচ। তবে চিনি বা চকলেট ছাড়া সাধারণ ওটস, মুসলি ও গ্র্যানোলা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
ফুড অ্যান্ড ড্রিংক ফেডারেশন এফডিএফ জানিয়েছে, তারা গত বছরের অক্টোবর থেকেই স্বেচ্ছায় এই বিধিনিষেধ অনুসরণ করে আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যের ছবি বা সরাসরি খাবারের প্রচার না করে কেবল ব্র্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং চালাতে পারবে। তবে নিয়ম ভঙ্গ হলে বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এএসএ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্থূলতায় ভুগছে। পাশাপাশি, পাঁচ বছর বয়সী প্রতি পাঁচ শিশুর একজনের দাঁতের সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা স্থূলতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। সরকারের ধারণা, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার শিশুর স্থূলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের লক্ষ্য করে জাঙ্ক ফুডের আগ্রাসী প্রচারণা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এখন সময় এসেছে স্বাস্থ্যকর খাবারকে আরও সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলার। যদিও সমালোচকদের মতে, ব্র্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং চালু থাকায় নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব কিছুটা সীমিত হতে পারে।
তারপরও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে যুক্তরাজ্য সরকার। নীতিনির্ধারকদের আশা, বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদকরাও স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যের দিকে ঝুঁকবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের স্থূলতা ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
সিএ/এসএ


