ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তার দেশ ইরানি জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতা, মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষায় ইরানি জনগণ যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, ইসরায়েল তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘স্বাধীনতা, মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষায় ইরানি জনগণের সংগ্রামের সঙ্গে আমরা সংহতি প্রকাশ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘খুব সম্ভবত আমরা এমন এক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যখন ইরানের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে।’ তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
ইরানে চলমান এই বিক্ষোভ শুরু হয় গত রবিবার, যখন অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দোকানদাররা ধর্মঘটে যান। পরবর্তীতে এই আন্দোলন বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নেয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের চিরশত্রু রাষ্ট্র ইসরায়েল ও ইরান গত বছর ১২ দিনের একটি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘাতে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সীমিত হামলায় যোগ দেয় এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় দুই পক্ষ।
রবিবারের বক্তব্যে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, তার সাম্প্রতিক সরকারি সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘একদিকে শূন্যমাত্রার সমৃদ্ধকরণ নীতি এবং অন্যদিকে ইরানের ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করে স্থাপনাগুলোকে কঠোর ও প্রকৃত তদারকির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা—এই যৌথ অবস্থান আমরা পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
সরকারি তথ্য ও সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ইরানের অন্তত ৪০টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব শহরের বেশির ভাগই দেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।
সরকারি ইরানি তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সহিংসতায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।
সিএ/এএ


