তথ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির একদল গবেষক অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের একটি কিউআর কোড তৈরি করেছেন, যা আকারে ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও ছোট।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১.৯৮ বর্গ মাইক্রোমিটার আকারের এই কিউআর কোডটি ইতোমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কিউআর কোড হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছে। কোডটি স্ক্যান করলে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়।
বিশেষ ধরনের সিরামিকের ওপর খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে এই কোড। গবেষকরা বলছেন, এটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে শত শত বছর ধরে তথ্য সংরক্ষণ ও পাঠযোগ্যতা বজায় থাকে। প্রচলিত ইলেকট্রনিক বা চৌম্বকীয় ডিভাইসের তুলনায় এই প্রযুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
কোডটি এতটাই ক্ষুদ্র যে খালি চোখে বা সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে এটি দেখা সম্ভব নয়। এটি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ।
ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির ইনস্টিটিউট অফ মেটিরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক পল মেয়ারহফার বলেন, “আমরা এখানে যে কাঠামোটি তৈরি করেছি তা এতটাই সূক্ষ্ম যে সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে তা মোটেও দেখা সম্ভব নয়। “তবে এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় নয়… আমরা অতি ক্ষুদ্র, দীর্ঘস্থায়ী ও বারবার পড়া সম্ভব এমন কিউআর কোড তৈরি করেছি।”
এই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে পাতলা সিরামিক ফিল্ম, যা সাধারণত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কাটার যন্ত্রে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে প্রতিকূল পরিবেশেও এটি তার গঠন অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম।
সিনিয়র বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার কার্নবাওয়ার বলেন, “আমরা তথ্যের যুগে বাস করছি, অথচ আমাদের জ্ঞান এমন সব মাধ্যমে সংরক্ষিত হচ্ছে, যা বিস্ময়করভাবে ক্ষণস্থায়ী। “সিরামিক স্টোরেজ মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা প্রাচীন সভ্যতার মতো পথ অনুসরণ করছি, যাদের শিলালিপিগুলো আমরা আজও পড়তে পারি। বিভিন্ন তথ্যকে এমন স্থিতিশীল ও ক্ষয়হীন উপাদানে লিখছি আমরা, যা সময়ের সঙ্গে টিকে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও পুরোপুরি সহজলভ্য থাকবে।”
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির পরিধি বাড়ানো গেলে একটি এ৪ আকারের পাতায় দুই টেরাবাইটেরও বেশি তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। বর্তমানে তারা তথ্য লেখার গতি বাড়ানো ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের উপায় নিয়ে কাজ করছেন।
সিএ/এমআর


