মোটিভেশনাল বক্তাদের ভাষ্যে ভোরে ওঠা যেন সফলতার প্রথম ধাপ। তবে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বলছে, বিষয়টি সবার জন্য এক নয়। সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় ভোর ৫টায় উঠে কেউ দিন শুরু করছেন ব্যায়াম, ডায়েরি লেখা কিংবা ঠান্ডা পানিতে গোসলের মাধ্যমে। এসব অভ্যাসকে অনেকেই সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে তুলে ধরেন।
কিন্তু গবেষণা বলছে, মানুষের শরীরের নিজস্ব একটি জৈবিক ছন্দ রয়েছে, যাকে ক্রোনোটাইপ বলা হয়। এই ছন্দ নির্ধারণ করে কেউ ভোরে বেশি কর্মক্ষম, নাকি রাতে। সাধারণভাবে মানুষকে ‘ভোরের পাখি’ ও ‘রাতের পেঁচা’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ভোরের পাখিরা সকালে স্বাভাবিকভাবেই সক্রিয় থাকেন, অন্যদিকে রাতের পেঁচারা রাতে বেশি কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে ওঠার অভ্যাসে অভ্যস্ত, তারা শিক্ষাজীবনে তুলনামূলক ভালো ফল করে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করে। তবে এর পেছনে সামাজিক কাঠামোরও প্রভাব রয়েছে, কারণ অধিকাংশ শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র সকালে শুরু হয়। ফলে রাতজাগা মানুষেরা প্রতিনিয়ত সময়ের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে ঘুমের ঘাটতিতে ভোগেন। এই অবস্থাকে বিজ্ঞানীরা ‘সোশ্যাল জেটল্যাগ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোর করে ভোরে ওঠার চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রে বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে। এতে মনোযোগ কমে যাওয়া, বিরক্তি এবং কাজের দক্ষতা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বরং নিজের শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বুঝে সেই অনুযায়ী দৈনন্দিন রুটিন তৈরি করাই বেশি কার্যকর।
ক্রোনোটাইপ পুরোপুরি বদলানো সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরকে মানিয়ে নেওয়া যায়। যেমন প্রতিদিন একটু আগে ঘুমানো, সকালে সূর্যের আলো গ্রহণ এবং রাতে স্ক্রিন টাইম কমানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যের রুটিন অনুসরণ না করে নিজের শরীরের উপযোগী সময়সূচি তৈরি করাই প্রকৃত উৎপাদনশীলতার চাবিকাঠি।
সিএ/এমআর


