বয়স বাড়া মানেই শারীরিক ও মানসিক অবনতির ধারণা দীর্ঘদিনের। তবে নতুন গবেষণা বলছে, এই ধারণা সব ক্ষেত্রে সত্য নয়। বরং একজন মানুষ বার্ধক্যকে কীভাবে গ্রহণ করছেন, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা বয়স বাড়াকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন, তাদের শারীরিক গতি ও মানসিক দক্ষতা সময়ের সঙ্গে উন্নত হতে পারে। গবেষণাটি দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত হয় এবং এতে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ১১ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন।
গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে, অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে চিন্তাশক্তি ও হাঁটার গতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়েও মানসিক সক্ষমতার অবনতি দেখা যায়নি।
অন্যদিকে যারা বয়স নিয়ে নেতিবাচক চিন্তায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক অবনতি তুলনামূলক দ্রুত ঘটে। গবেষকরা বলছেন, মানুষের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি শরীরের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
গবেষণার প্রধান গবেষক বেকা লেভি বলেন, ‘বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন, বয়স বাড়া মানেই শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা একটানা কমতে থাকা এবং এটি ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। কিন্তু আমরা দেখেছি, শেষ বয়সে এসেও স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়াটা কোনো বিরল ঘটনা নয়। বরং এটি খুব সাধারণ একটি বিষয়। বয়সের এই বিষয়টিকে আমাদের বার্ধক্য প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক হিসাবের মধ্যেই ধরা উচিত।’
তিনি আরও জানান, বয়স নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব স্মৃতিশক্তি, ঘুম, হৃদ্রোগ এমনকি আলঝেইমারসের ঝুঁকির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইতিবাচক চিন্তা, মানসিক প্রশান্তি এবং নিজের প্রতি আস্থা থাকলে বার্ধক্যও হতে পারে প্রাণবন্ত ও সুস্থ জীবনের একটি অধ্যায়।
সিএ/এমআর


