কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এআই চ্যাটবট ব্যবহারের ফলে কিছু ব্যবহারকারীর মধ্যে বিভ্রান্তিকর ধারণা ও মানসিক ভ্রমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই মানসিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের প্রভাব বেশি হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণাপত্রটির লেখক লন্ডনের কিংস কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ডা. হ্যামিল্টন মরিন বলেন, এআই চ্যাটবট অনেক সময় ব্যবহারকারীদের ‘ভ্রান্ত ধারণা ও অহংকারী মনোভাব’ (গ্রান্ডিওজ ডিলুশন) আরও শক্তিশালী করতে পারে। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে ওপেনএআই-এর জিপিটি-৪ মডেল আধ্যাত্মিক বা অতিরঞ্জিত ভাষা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের নিজেদের বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে উৎসাহিত করে।
তিনি বলেন, এমন অনেক উদাহরণ পাওয়া গেছে যেখানে চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের নিজেদের ‘ব্রহ্মাণ্ডের বিশেষ সত্তা’ হিসেবে ভাবতে প্ররোচিত করেছে। এতে মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ধারণা আরও বাড়তে পারে।
গবেষকরা জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে যারা আগে থেকেই মানসিক সমস্যার ঝুঁকিতে ছিলেন, তারাই এআই চ্যাটবট ব্যবহারের ফলে তুলনামূলক বেশি প্রভাবিত হয়েছেন। তবে এখনো এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে চ্যাটবট সরাসরি কাউকে মানসিক রোগে আক্রান্ত করে ফেলতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডা. ডমিনিক অলিভার বলেন, আগে মানুষ ভিডিও, বই বা অন্যান্য মাধ্যম দেখে নিজেদের ভুল ধারণা শক্তিশালী করত। কিন্তু বর্তমানে চ্যাটবট সেই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এবং শক্তিশালীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ এটি সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে মানুষের চিন্তায় প্রভাব ফেলে।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক ডা. রাগি গিরগিস বলেন, চ্যাটবটের নতুন সংস্করণগুলো আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হলেও এখনো তাদের কার্যকারিতায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি মনে করেন, এআই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে আরও নিরাপদভাবে এই প্রযুক্তি উন্নয়ন করতে পারে।
এ বিষয়ে ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের তৈরি চ্যাটবট কোনোভাবেই পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জিপিটি-৫ মডেলকে আরও নিরাপদ করতে তারা ১৭০ জন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কাজ করেছে। তবে প্রযুক্তিটি এখনও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। অন্যদিকে এ বিষয়ে অ্যানথ্রপিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সিএ/এমআর


